তুইও বিক্রি হয়ে গেলি, খেলতে নেমে গেলি : সায়নীকে শ্রীলেখা

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ যোগ দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেসে।বুধবার টলিপাড়ার এক ঝাঁক তারকার সঙ্গে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন সায়নী। এরপরই সায়নীকে কটাক্ষ করেছেন শ্রীলেখা মিত্র।

এ অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন শ্রীলেখা। লিখেছেন, ‘অপ্রত্যাশিত। সায়নী, তুইও বিক্রি হয়ে গেলি,খেলতে নেমে গেলি? দুঃখজনক।’ সায়নী ঘোষকে নিয়ে শ্রীলেখার ওই পোস্ট প্রকাশ্যে আসায় আলোচনা শুরু হয়েছে তাদের নিয়ে।

বামপন্থী হিসেবে টলিপাড়ায় পরিচিত ছিলেন সায়নী। হঠাৎ করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা। শ্রীলেখার পোস্টে জয়দীপ নামে একজন লিখেছেন, ‘মুখে ভাষণ দিলেই বামপন্থী হওয়া যায় কি? প্রচারের আলোয় থাকা যাদের লক্ষ্য, তারা পরিযায়ী হবেই।’ আরও পড়ুন : ডিভোর্স পেপার ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মা’মলায় অভিযোগ আনা হয়েছে দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮ ও ৫০০ ধারায়। এ ধারাগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড।’

ধারা : ৪৯৪। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহকরণ কোনো ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো পরিস্থিতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা : ৪৯৭। ব্যভিচার কোনো ব্যক্তি যদি অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এরূপ যৌ’নসঙ্গম করে যা না’রী ধ’র্ষণের শামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অ’পরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দু’ষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

ধারা : ৪৯৮। কোনো বিবাহিতা নারীকে অ’পরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধকরণ বা অপহরণ বা আ’টককরণ কোনো ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পু’রুষের সঙ্গে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ না’রীকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ যৌ’নসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অ’পহরণ বা প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায় বা অনুরূপ কোনো না’রীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গো’পন বা আ’টক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ধারা : ৫০০। মা’নহানির শাস্তি কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির মা’নহানি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কা’রাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীমের আ’দালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মা’মলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ৩০ মার্চের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মা’মলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর (রাকিব হাসান) সঙ্গে ১ নং আসামি তামিমা সুলতানার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রি হয়।বিয়ের পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। তোবা হাসান নামে তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। যার বর্তমান বয়স ৮ বছর।

মা’মলা সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত। চাকরির সুবাদে তিনি ২০২০ সালের ১০ মার্চ সৌদিতে যান। ম’হামারির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো।

মা’মলায় বলা হয়, ‘চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে ২ নং আসামির (ক্রিকেটার নাসির) কথিত বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বাদীর নজরে আসে। বাদী এ ধরনের ছবি দেখে হতবাক হয়ে যান। পরে পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ দেখে তিনি ঘটনার বিষয় নিশ্চিত হন।’

এ ছাড়া তাদের গায়ে হলুদ ও বিয়ে পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান যথাক্রমে ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে।মা’মলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘তামিমা বাদীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় নাসিরের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আ’বদ্ধ হন। নাসির বাদীকে ফোন করে জানান যে সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং তার নিকট তামিমা আছেন। বাদীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমার নাসিরকে বিয়ে করা যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আ’ইনে সম্পূর্ণ অ’বৈধ। আসামির সঙ্গে তিনি অ’বৈধ বিয়ের সম্পর্ক দেখিয়ে শা’রীরিক স’ম্পর্ক স্থাপন করেন, যা নিকৃষ্ট ব্যভিচার। ’

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘আসামিদের এরূপ অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে বাদী ও তার শিশুকন্যা মা’রাত্মকভাবে মানসিক ভাবে বি’পর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এহেন কার্যকলাপে বাদীর চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা বাদীর জন্য অপূরণীয় ক্ষ’তি।’মামলার বাদী রাকিব বলেন, ‘আমি প্রতিকার চেয়ে নাসির ও তামিমার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছি। মা’মলায় তামিমার মাকেও আসামি করতাম। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে আসামি করিনি। হাজার হলেও আমি তাকে মা বলে ডেকেছি।’