বাড়িময় এখনও মায়ের গন্ধ, মা আমার মধ্যে দিয়েই বেঁচে থাকবেন : সোহিনী

তাঁর শেষ ছবির নাম ‘বেলাশুরু’, ছবি মুক্তির আগেই শেষ হল তাঁর জীবনের পথচলা। বুধবার প্রয়াত হলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’ ছবির ‘বিমলা’, স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত (Swatilekha Sengupta)। থিয়েটার জগতের ‘নাচনী’-র মঞ্চের অভিনয় সেই হল সারাজীবনের মত। শোকস্তব্ধ টলিউড।

মা চলে যাওয়ার পর কাান্নার সময় টুকুও পান নি সোহিনী সেনগপ্ত। সব কাজ শেষে প্রিন্সেপ ঘাটে মায়ের অস্থি ভাসিয়ে ফিরলেন যখন বাইরে ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি। তিনি বৃষ্টি ভালবাসতেন, তার শেষযাত্রায় তাই বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সব শেষে কান্না হয়ে ঝরে পড়েছে শহরের বুকে। সোহিনীর (Sohini Sengupta) মতে ‘মা বৃষ্টি ভালবাসতেন, তাই কাল সারারাত জেগে বৃষ্টি দেখেছি। শহরকে ভাসতে দেখেছি, মা খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন, সমস্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।’

সোহিনী আরও বলেন ‘আমার বাড়িময় এখন মায়ের গন্ধ, মায়ের শাড়ি, সেই গন্ধেই মাকে পাচ্ছি। আমার অনেকটা জুড়ে মা আছেন, আমার গলার স্বর, আমার অভিব্য়ক্তি, আমার মুখে মায়ের ছাপ আছে। মা সেইভাবেই আমার কাছে থাকবে।

গত চার বছর ধরে কিডনির সমস্য়ায় ভুগছিলেন, একবার হৃদরোগেও আক্রান্ত হন, কাউকে জানাতে দিতে চান নি অভিনেতা। গত ২৫দিন ধরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৭১ বছরে থেমে গেল হৃদস্পন্দন। বহু বছর বাংলা ছবির দর্শক তাঁকে পর্দায় দেখতে পাননি। মঞ্চে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।

পরবর্তীকালে ফিরে এসেছিলেন প্রযোজক-পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বেলাশেষে’ ছবির মাধ্যমে। মুক্তির অপেক্ষায় ‘বেলাশুরু’ও। তাঁকে স্মরণ করেই শিবপ্রসাদ লেখেন-‘ভ্রমণের শেষে ফিরে এসো ঠিক আগের মতো,কেউ বসে আছে তোমার অপেক্ষায়।

এই ছবিতেই তাঁর মেয়ের চরিত্রে ছিলেন অপরাজিতা আঢ্য, তিনি লেখেন-‘ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে’। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে সুদীপ্তা চক্রবর্তীও। সকলেই কথায় উঠে এল বারবার বর্ষীয়ান অভিনেতা তো বটেই মায়ের মতন এক অভিভাবককে হারাল টলিউড